রাজশাহীর ৫ স্কুলে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, চলতি বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন পাস করেছেন। ফলে বোর্ডে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

পাঁচটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যানেও এ বছর পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছর রাজশাহী বোর্ডে ছাত্রীদের ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো হয়েছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বোর্ডের ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯৯১ জন ছাত্রী এবং ৭ হাজার ৬২২ জন ছাত্র।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, এর পেছনে শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মতো বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এমন ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ফলাফলের পেছনে একক কোনো কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহের পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে ফলাফল খারাপ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দায় চাপিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice