ই-কার আছে, চালানোর লোক নেই: তিন মাসেও কাটেনি রাবির যাতায়াত সংকট

প্রতিবেদক: রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ ও স্বল্পমূল্যের করতে ই-কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেবা চালুর পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিচালনার সক্ষমতা। রুয়া পাঁচটি ই-কার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করতে চাইলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ চালক না থাকায় সেবা চালুর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ই-কার সেবা বন্ধ থাকার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি অর্থ খরচ করে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

গত বছরের অক্টোবরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) ক্যাম্পাসে ১৫টি পরিবেশবান্ধব ই-কার চালুর ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় নভেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ই-কার চালু করা হয়। তবে চালকদের লোকসান, ভাড়া-সংক্রান্ত জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহে সেবাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সেবা বন্ধ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রুয়ার পক্ষ থেকে নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। কোম্পানি থেকে ভাড়ায় ই-কার পরিচালনার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ই-কার কিনে পরিবহন দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালনা এবং রাজশাহীতেই ই-কারের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ৪ এপ্রিলের মধ্যে সেবা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এখন রুয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঁচটি ই-কার একসঙ্গে হস্তান্তর করতে চাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের মতো বিনা ভাড়ায় নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুযায়ী এসব ই-কার পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, ই-কার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও চালক না থাকায় সেবা চালুর আগে এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

রুয়ার সাধারণ সম্পাদক ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “ই-কার চালুর বিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি। আমরা পাঁচটি ই-কার কিনে একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের মতোই ই-কারে শিক্ষার্থীরা বিনা ভাড়ায় চলাচল করতে পারবেন—এমন প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। তবে আগের মতো যত্রতত্র চলাচলের পরিবর্তে নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুযায়ী ই-কারগুলো পরিচালনা করা হবে।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলছেন, শুধু ই-কার পেলেই সেবা চালু করা সম্ভব নয়। এগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও দক্ষ চালকও দরকার। তিনি বলেন, “রুয়া ই-কার বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে চাচ্ছে, এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এগুলো পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল বা দক্ষ চালক নেই। এমনিতেই আমাদের বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কার পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল ও চালক কোথায় পাব, সেটিও একটি বিষয়। ই-কার চালুর আগে দক্ষ চালকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে হবে। আমরা রুয়ার সঙ্গে বসে ই-কার পরিচালনার সার্বিক বিষয়গুলো ঠিক করে তারপর এটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”

রিকশাভাড়ার চাপ, বিকল্প নেই

ই-কার সেবা চালুর অপেক্ষার মধ্যেই সম্প্রতি ক্যাম্পাসে রিকশা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্বল্পমূল্যের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তি ভাড়া দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ রাফিন আহমেদ বলেন, “যে কোনো সেবা চালুর চেয়ে তা টেকসইভাবে পরিচালনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মাসের মধ্যে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই প্রমাণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের সেবা চলতে পারলে রাবিতে না পারার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।”

চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যত বড়, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও যেন তত বেশি। বিশেষ করে চারুকলা ও কৃষি অনুষদে যাওয়ার সড়কের শুরু থেকেই দুর্ভোগ। রিকশাচালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। বহুল প্রতীক্ষিত ই-কার সেবা চালু হলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে আবার রিকশা ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাবিয়ান হিসেবে আর এসবকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত ই-কার সেবা চালু করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice