পরীক্ষায় অসদুপায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) প্রশাসন। অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি সিরিজের মোট ১২ শিক্ষার্থীকে দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় অবস্থিত কনফারেন্স রুমে বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাস্তিপ্রাপ্ত ১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১ সিরিজের দুজন, ২২ সিরিজের দুজন, ২৪ সিরিজের পাঁচজন এবং ২৫ সিরিজের তিনজন রয়েছেন।
এর মধ্যে ২১ সিরিজের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের একজন এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। ২২ সিরিজের শাস্তিপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে একজন যন্ত্রকৌশল ও অন্যজন পুরকৌশল বিভাগের। ২৪ সিরিজের পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন পুরকৌশল এবং একজন মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এমটিই) বিভাগের। এছাড়া ২৫ সিরিজের পুরকৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের একজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন।
গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২১ সিরিজের দুই শিক্ষার্থীর চতুর্থ বর্ষের বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। একই শাস্তির আওতায় ২২ সিরিজের দুই শিক্ষার্থীর তৃতীয় বর্ষের বিজোড় সেমিস্টার, ২৪ সিরিজের পাঁচ শিক্ষার্থীর প্রথম বর্ষের ব্যাকলগ এবং ২৫ সিরিজের তিন শিক্ষার্থীর প্রথম বর্ষের বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আগামী দুই শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনঃভর্তি হয়ে তাঁরা বাতিল হওয়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় পুনরায় অংশ নিতে পারবেন।
এছাড়া পরীক্ষার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ক্যালকুলেটর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। তাঁদের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর জব্দ করা এসব সামগ্রী ফেরত দেওয়া হবে।
রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার এ বিষয়ে বলেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে রুয়েট প্রশাসন কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সততা, দায়িত্বশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধের অধিকারী হওয়া জরুরি। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনায় ব্যাকলগ ও শর্ট সেমিস্টার উভয় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাঁচটি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও পরীক্ষায় অসদুপায়ের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থেকে সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে শিক্ষাজীবন পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি একাডেমিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অসদুপায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
