রাজশাহী রেশম কারখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। এ লক্ষ্যে কারখানায় আরও বেশি পাওয়ার লুম চালুর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ ও রাজশাহী রেশম কারখানার পাওয়ার লুম চালুকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।
মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বিশ্বজুড়ে রাজশাহী সিল্কের সুনাম রয়েছে। একসময় এই রেশমশিল্প ছিল রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তবে সময়ের সঙ্গে কারখানাটি তার ঐতিহ্য হারিয়েছে। এখন উৎপাদন বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রেশমশিল্পকে আবারও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে কারখানাটি আবারও আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারে। কারখানাকে জিম্মি করে কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে কোনো লাভ নেই। এতে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ভুগতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের ভাই। সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি এবং থাকব।’ রাজশাহী রেশম কারখানার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এমএ মান্নান এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকারসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহী রেশম কারখানায় পাওয়ার লুম চালু করা হয় এবং তুঁতচারা রোপণ করা হয়। এ সময় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
