ভারতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন যুক্ত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের পদত্যাগের স্লোগানও। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ। তাদের দাবি, সরকার এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনে সক্রিয় তরুণী রুবি সিংয়ের মতে, তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভারত ক্রমেই কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুবি। তিনি বলেন, ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্যই তাদের এই আন্দোলন। দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বাধা এলেও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
সরকার পরিবর্তনের দাবি আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। গত ১৫ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারির অভিযোগ, বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
এ প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন ভান্ডারি। তার দাবি, বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন নেহা। রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তার উপস্থিতিকেও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছে বিজেপি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, কংগ্রেস ও সিজেপির আন্দোলন আরও সমন্বিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী জোটের বাইরে থাকা আম আদমি পার্টিও সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ভারতের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ এখন মোদি সরকারের বিদায়ের দাবি তুললেও, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা বিস্তৃত হবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর।
