অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করল টাইগাররা।
ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন হাসান মাহমুদ। ৫৫ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়ে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।
অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে আটকে দেওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ—ব্যাট হাতে ভালো সংগ্রহ গড়া। সেই দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তামিম তুলে নেন সেঞ্চুরি, আর শান্ত খেলেন ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।
মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও দলের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় টাইগাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। শুরুতে আবারও উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করেন হাসান মাহমুদ। এরপর বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একে একে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধ ভেঙে দেন এই অলরাউন্ডার।
ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা লড়াইয়ের সুযোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানের বেশি এগোতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় কোনো নাটক না করেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ৯ উইকেটের দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
এই জয়ের বিশেষত্ব আরও বড়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্টে জয় পেয়েছিল মাত্র একবার। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে এমন জয় ছিল টাইগারদের জন্য অধরা স্বপ্ন। এবার সেই স্বপ্নই বাস্তবে পরিণত হলো।
হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিং, তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্তর গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস এবং মিরাজের ব্যাট-বলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে চার দিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
এক সময় যে জয়কে অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তব। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করল—এই দল চাইলে ক্রিকেটের বড় শক্তিগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
