ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলা প্রত্যাহার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার রায়সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়।
সম্প্রতি গত ২০ আগস্ট হাইকোর্টে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আজ সোমবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
