তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমধসের পর নেপালে ভয়াবহ জলউচ্ছ্বাস ও বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ধ্বংসস্তূপ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪০৩ জন।
নেপালের রসুয়া জেলায় ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী ভারতের বিহারেও। সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় পুরো রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, তিব্বত থেকে নেমে আসা বিপুল পানি ভোতে কোশি নদী হয়ে ত্রিসুলী ও গণ্ডক নদীপথে বিহারে প্রবেশ করতে পারে। এতে গণ্ডক নদীর তীরবর্তী পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ ও সারণসহ বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী একটি উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করেছেন। নদী ও বাঁধ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলায় নাইট পেট্রোলিংও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
নেপাল থেকে গণ্ডক নদীপথে বিপুল পরিমাণ পানি বিহারে প্রবেশের আশঙ্কায় প্রশাসন নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আগেভাগেই নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাল্মীকিনগরে গণ্ডক ব্যারেজের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশের প্রকৌশলীরা ব্যারেজের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় বাল্মীকিনগরের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকেও বন্যপ্রাণী সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বিহার সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নেপাল থেকে পানি গণ্ডক নদীতে প্রবেশ করতে শুরু করে। পানির চাপ সামাল দিতে উত্তর বিহারের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমধসের ধাক্কায় নেপালে সৃষ্ট ভয়াবহ জলউচ্ছ্বাসে তিনটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
