দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষকদের নানা প্রতিকূলতা বিবেচনায় তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার ২৬ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি বিষয়ক প্রকল্পের ওপর প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গম অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের নানা প্রতিকূলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন নীতিমালায় দুর্গম ভাতার ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামো বা মডুলার বিল্ডিংয়ের মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে সরকারি ব্যবস্থায় সেগুলো প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসন ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে না এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকটও কমবে।

তিনি জানান, মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেলগুলো পাইলট প্রকল্পে পরীক্ষা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে অনিয়ম কমেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মায়েদের আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান দুটি লক্ষ্য হলো কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং সবাইকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি প্রাথমিক শিক্ষার এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ এবং ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice