২৪ জুলাই ইন্টারনেট আংশিক চালু হওয়ার পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ভিডিও ও ছবি ২৫ জুলাইও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। একই সঙ্গে সরকার দেশব্যাপী গ্রেপ্তার অভিযান আরও জোরদার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক অব্যাহত রাখে।
সারাদেশে কারফিউ কার্যকর থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিথিল করা হয়, যাতে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে পারে। তবে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও অন্যান্য বড় শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং চেকপোস্টের কারণে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করে। অনেক এলাকায় গণপরিবহন সীমিত থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
পুলিশ জানায়, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের শনাক্তে ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আরও বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে কর্মসূচি দিতে না পারলেও বিভিন্ন মাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। আন্দোলনের সমন্বয়করা তাদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আন্দোলন ঘিরে প্রাণহানি, গ্রেপ্তার এবং ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। বিদেশি গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতে থাকে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলতে থাকে। স্বজনরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে হাসপাতাল, থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে ছুটে বেড়ান। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিখোঁজ ও আটক ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং তাদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
২৫ জুলাইয়ের দিনটি ছিল আন্দোলনের দৃশ্যমান কর্মসূচির চেয়ে রাষ্ট্রীয় অভিযান, জনমনে আতঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি বৃদ্ধির দিন। একদিকে চলতে থাকে গ্রেপ্তার ও তদন্ত, অন্যদিকে আন্দোলনের দাবিগুলো নানাভাবে জনমনে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই দিনটি পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তি তৈরি করে।
