জাতীয় বাজেট দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল; প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হক

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় বাজেট দেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হক। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিনেট ভবনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে রাবি আইবিএস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘বাজেট নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. হক বলেন, “জাতীয় বাজেট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এর মূল লক্ষ্য দেশের অর্থনীতির পূনর্গঠন। এবারের বাজেট যেহেতু উন্নয়নমুখী, তাই এর সফলতা নির্ভর করবে যথাযথ বাস্তবায়নের উপর। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জনমানুষের মূল লক্ষ্য বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ। তাই আমরা চাই এই বাজেট যেন বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়।”

গোছালো এবং জনকল্যাণমুখী বাজেট পেশ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে গোছালো এবং জনকল্যাণমুখী চমৎকার একটি বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছে। পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন হলে দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে।

বক্তব্যের শেষে জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রস্তাবনার জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সেমিনারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আব্দুর রহিম বাজেট নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সরকারের রাজস্ব ও অর্থায়ন, সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎস, রাজস্ব আদায়ে গৃহীত পদক্ষেপ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, ব্যয়ের প্রধান খাতসমূহ, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট, ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ, জনকল্যাণমূলক সেবা এবং সামাজিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

এ সময় প্রধান আলোচক হিসেবে সিপিডির সম্মানিত ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নাগরিক হিসেবে বাজেট সম্পর্কে জানার অধিকার আমাদের রয়েছে। এই বাজেট যে ব্যতিক্রমী একটা বাজেট সেটাকে অস্বীকার করা যাবে না। আমরা পোশাক শিল্পের পন্যে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিলেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে যেখানে এটা দেওয়া উচিত ছিল সেটা দিতে পারিনি। জিডিপির একটিতে বাজেট বাড়ালে আরেকটিতে কমাতে হবে। একটাতে বাড়ানো আরেকটাতে কমানো এটা একটা জটিল বিষয়। সম্পদ আহরণ বেশি করতে পারলে না কমিয়েও বাজেট বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে যাদের ট্যাস্ক দেওয়ার কথা তারা দিচ্ছেন না। কেবল প্রযুক্তির কথা বললেই হবে না। আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের সাথেও সমন্বয় করতে হবে। সরকার যেহেতু বলছে তারা জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়। আমাদের বিদেশি সাহায্য লাগলে নিতে হবে কিন্তু এটা আমাদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যে বাজেট উপস্থাপন করেছে, তা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং কৃষকের সুবিধাসহ নানা বিষয় এতে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই বাজেট তখনই স্বার্থক হবে, যখন তা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।”

আইবিএস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল হক ও গবেষক রেহানার সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, টিএমএসএস বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম, আইবিএসের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. মোস্তফা কামালসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice