৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের সময় চোখধাঁধানো ১২ মাসে ২৪ দফা ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছিল শিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। তবে নির্বাচনের ছয় মাস পার হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।
গত ১৬ই অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) সহ মোট ২৩টি পদের ২০টিতে বিজয়ী হয় তারা।
শিবির সমর্থিত প্যানেলের ঘোষিত ২৪ দফার ইশতেহারগুলোর মধ্যে ছিল বিশেষ করে মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ, লাইব্রেরি ও রিডিং রুম সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা, চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, তথ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, অন-ক্যাম্পাস জব চালু, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়ন এবং ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এখন পর্যন্ত তাদের ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারের ৪ দফার কাজ দৃশ্যমান হয়েছে যা গড়ে মোট ইশতেহারের প্রায় ১৬.৬৭% এখনো প্রায় ৮৩.৩৩% বাস্তবায়ন করা বাকি।
শিবিরের ইশতেহারগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করলেও গত ছয় মাসে হতাশ হয়েছেন তারা। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, হলের খাবারের নিম্নমান, নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা ছিলেন উদগ্রীব। রাকসুর দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ইশতেহারগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনে উঠেছে নানান প্রশ্ন।
ফিন্যান্স বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোসাব্বিরুল আজিজ আসিফ বলেন, রাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটকে নির্বাচিত করেছিল, তা পূরণে তারা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছে। জুলাই জাদুঘর স্থাপন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন, চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকীকরণ, নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়ন এবং তথ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, গত ৬ মাসে সেসব বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম লক্ষ করা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর আবাসিক হলের খাবারের মানোন্নয়নে কিছু খণ্ডকালীন উদ্যোগ দেখা গেলেও বর্তমানে তা আর অব্যাহত নেই। তবে সম্প্রতি লাইব্রেরি সংস্কারের বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শোনা গেছে, যা ইতিবাচক দিক। কিন্তু সার্বিকভাবে প্রতিশ্রুতির সিংহভাগই কাজ বাদ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের হতাশা এবং ইশতেহারের সিংহভাগই বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে রাকসুর ভিপি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও শিবির-সমর্থিত প্যানেল শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। হল দখল ও গণরুম সংস্কৃতি বন্ধ, পাশাপাশি ম্যাগাজিন, সাহিত্য আড্ডা ও বিভিন্ন দিবস উদযাপনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবাসন সংকট নিরসন, অনাবাসিক ভাতা, ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন ও মেডিকেল সেবা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্যানেলের কাজ ও অগ্রগতি অনেকটাই শিক্ষার্থীদের দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।