গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সারাদেশে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজশাহীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর ১১ দলীয় ঐক্য জোট। শনিবার বিকেল ৫টায় নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে এই গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কুমার পাড়া মোড়, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মনি চত্বর, রাজশাহী কলেজ ও লোকনাথ স্কুলের সামনে দিয়ে এবং সোনা দিঘি মোড় হয়ে বাটার মোড়ে এসে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তীতে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় পেলেও, বর্তমান সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না।
জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়েও তেল পাচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের খাম্বা আছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই। জনগণকে বিদ্যুৎ দিতে না পারলে ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার এই সরকারের নেই।
শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে আহত করছে। বিগত সরকারের ছাত্র সংগঠনের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, বিগত সরকার সকল প্রশাসনকে ব্যবহার করেও টিকতে পারেনি। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠলে বর্তমান সরকারকেও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী টিকতে পারেননি, বর্তমান সরকারকেও এই ধরণের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করে ফ্যাসীবাদী সরকারের পতন ঘটানো হয়েছে, সুতরাং বর্তমান সরকারের পতনের জন্য ১৭ দিনও সময় লাগবে না। যারা একসময় আত্মগোপনে থেকে লড়াই করেছেন, তাদের অবদানেই আজ অনেকে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে জনগণের রায় অর্থাৎ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান নেতারা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমীর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মন্ডল। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সহকারী আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহবায়ক মোঃ মোবাশ্বের আলী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের ব্যবসা ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম সারোয়ার জাহান প্রিন্স। ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজির। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।