শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
হিরার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে যুবদলের আর্থিক উপহার চাঁদাবাজি নিয়ে দ্বন্দ্ব, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সরকারি সুবিধা নিশ্চিতের নির্দেশ এমপি মিলনের মাহফিলের দাওয়াত ঘিরে দাওকান্দি কলেজে উত্তেজনা, প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ রাজশাহীতে পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন, গাছ কাটা-পুকুর ভরাট বন্ধের দাবি মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে উচ্ছেদ অন্যায়: ভূমিহীনদের খাসজমি দেওয়ার আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে সতর্ক করলেন ছাত্রদল সভাপতি রাজশাহীতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন স্থবির অনুষ্ঠান শেষে উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন রাবির হল সংসদের রাবিতে সামাজিক বিজ্ঞান ডীনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ১০ শিক্ষার্থী ও ৩ শিক্ষক

মাহফিলের দাওয়াত ঘিরে দাওকান্দি কলেজে উত্তেজনা, প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
মাহফিলের দাওয়াত ঘিরে দাওকান্দি কলেজে উত্তেজনা, প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
Share Now

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজটির প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মারধর, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জয়নগর ইউনিয়নের দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই কলেজজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগামী ৪ ও ৫ মে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের দাওয়াতপত্র দিতে কয়েকজন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করেন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা ভেতরে যান।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দাওয়াতপত্র দেওয়ার আগেই প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতদের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি ছিল না; বরং হীরার আচরণেই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা জয়নাল আবেদিন, মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এজদার আলীসহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক হীরার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা ছিল। তাদের দাবি, হঠাৎ স্থানীয়দের উপস্থিতি পছন্দ না হওয়ায় হীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আলেয়া খাতুন হীরা দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি প্রায় অধ্যক্ষের আশপাশে অবস্থান করেন এবং অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের যোগাযোগে বাধা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “আমি কাউকে অপমান করিনি। যারা এসেছিল তারা মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বরং আমাকেই মারধর করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কলেজে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সময় বাইরে কী হয়েছে তা আমি নিশ্চিত নই।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category