বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আপসহীনতার প্রতীক ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয়।
জানাজায় মিলিয়ন জনতার অংশগ্রহণে যেভাবে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়, সেই দৃশ্য তাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
পোস্টে তারেক রহমানের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন।’
এর আগে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে দেওয়া অন্য একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ভাষায়, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্ত হয়েছে। এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।’
তারেক রহমান আরও লেখেন, ‘অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।’
গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন বিকেলেই তাকে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে শোক নেমে আসে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। সমাহিত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কবর জিয়ারতের জন্য জিয়া উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন।