পাকিস্তানে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চলছে নানান হিসেব নিকেশ। বিভিন্ন দলকে নিজেদের জয়ি ঘোষণা করতেও দেখা গেছে, একই সাথে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টি। তাদের কাছ থেকে ৫০টি আসন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ অলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ দলটির। ভোটকেন্দ্রে এসব আসনে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও পরে অন্যদের জয়ী দেখানো হয়েছে। তারা দাবি করেছে, এই আসনগুলো এবং সেইসাথে সংরক্ষিত ৭০টি আসন থেকে তাদের হিস্যা দেয়া হলে তাদের মোট আসন হবে ১৭০। আর তাতে করে তারা একাই সরকার গঠন করতে পারে।
পিটিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লতিফ খোসা রোববার রাতে দাবি করেন, পিটিআই-সমর্থিত ৫০টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয় করে ফরম ৪৫ দেয়া হয়েছিল। এসব আসনে ওইসব প্রার্থী কয়েক হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিল।
তিনি বলেন, পিটিআই এই ৫০ আসন ফিরে পাবে। তিনি বলেন, এগুলোর সাথে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো পেলে তাদের আসনসংখ্যা হবে ১৭০টির মতো। তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতে গেলে আমরা নিজেরাই সরকার গঠন করতে পারব।
তিনি বলেন, ‘অন্যদের নির্দেশে’ জোট সরকার গঠনের বদলে তারা খুশিমনে বিরোধীদলে বসবেন।
এদিকে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে রোববার দেশের নানা জায়গায় পিটিআই সমর্থকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ইমরান খানের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। রাওয়ালপিন্ডি শহরে এবং পূর্ব লাহোরে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। একাধিক শহরে বিক্ষোভ দেখান ইমরান খানের সমর্থকেরা। পুলিশ আগেই সতর্ক করেছিল যে তারা বেআইনি জমায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। রোববার একাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
কারাবাসে থাকায় ইমরান খানের দল পিটিআই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। তাই ইমরানের সমর্থকদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়েছিল।
রোববার ইসলামাবাদের পুলিশ বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিছু ব্যক্তি নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সরকারি অফিসের আশেপাশে অবৈধ সমাবেশে উস্কানি দিচ্ছে। বেআইনি সমাবেশের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা উল্লেখ্য, জমায়েতের জন্য অনুরোধ করাও একটি অপরাধ।’ রাওয়ালপিন্ডিতেও একইরকম সতর্কতা জারি করা হয় রোববার। লাহোরের লিবার্টি মার্কেটের কাছে সঙ্ঘাত এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
রাওয়ালপিন্ডিতে একাধিক পিটিআই সমর্থকদের জমায়েতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। নির্বাচনী অফিসে বিক্ষোভ-অবস্থান বন্ধ করার আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছিল পিটিআই সমর্থকেরা। লাহোরে প্রায় ২০০ জন পিটিআই সমর্থকের আরেকটি সমাবেশ দ্রুত ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণে করাচিতে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ এলাকা খালি করার নির্দেশ দিলেও সে কথা শোনেননি ইমরানের সমর্থকেরা।
