রাজশাহী ও নাটোর জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বারনই নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। নদী পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধারের পর যাতে আবারও দখল, দূষণ কিংবা ভরাটের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স। পাশাপাশি প্রকল্পের অগ্রগতি ও নদীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্পের এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও দূষণের কারণে বারনই নদী তার স্বাভাবিক অবস্থা হারিয়েছে। নদীর পানি এতটাই দূষিত যে, তা ব্যবহার কিংবা নদী পারাপারের সময় মানুষের শরীরে ঘা হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনদুর্ভোগ কমানো এবং নদীর পানির দূষণ রোধে সরকার খনন ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন নদী ও খাল খননের পর আবারও সেগুলো দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটেছে। বারনই নদীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নদী পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি এর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পের কাজ তদারকি এবং নদী দখল ও ভরাট প্রতিরোধে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্যরা প্রতি ১৫ দিন পরপর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন। এ ছাড়া নদী ও খালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্য থেকে দুজন এবং জেলা প্রশাসনের দুজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিয়মিত প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নদীর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বারনই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী খননের পর যাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্য কিংবা অন্য কোনো ধরনের ময়লা ফেলে আবার ভরাট করা না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নদীটি তার হারানো রূপ ফিরে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, দূষণ প্রতিরোধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
