নওগাঁর মান্দায় সরকারি অর্থায়নে পাকা সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ডেইলি সিটিজেন ভয়েজ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেই ইট সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে নির্মাণাধীন সড়ক থেকে এসব ইট সরানোর কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সড়কটির নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’।
এর আগে সড়ক নির্মাণকাজে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত ইট ও বালু ব্যবহার না করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের নজরদারিতে বুধবার সকাল থেকেই সড়কটি থেকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা ইট শ্রমিকরা সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্যই এসব ইট আনা হয়েছিল। তবে ইটের মান নিয়ে শুরু থেকেই তারা আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে সিডিউল অনুযায়ী এক নম্বর ইটের খোয়া ও মানসম্মত বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের পাশাপাশি সাব-বেস ও বেস টাইপের কাজেও বালু ও খোয়ার সঠিক অনুপাত বজায় রাখা হচ্ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়া হলেও কেবল ইট সরানোই যথেষ্ট নয়। সড়কের পুরো নির্মাণকাজ সিডিউল মেনে হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে তারা মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের জোর দাবি জানান।
এদিকে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোছা.পারুল দাবি করেন, সড়কের কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইটগুলো সাময়িকভাবে আনা হয়েছিল এবং তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।তার দেওয়া ওই আশ্বাসের পরই সড়ক থেকে নিম্নমানের ইট সরানোর কাজ শুরু হয়।
এ বিষয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আব্দুল কাদের বলেন, নিম্নমানের ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী কাজে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।
