কুষ্টিয়ার সর্বকনিষ্ঠ জুলাইযোদ্ধা শহীদ আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিনের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে শহীদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান, সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম, মুখ্য সংগঠক যায়েদ বিন ওসমান এবং শহীদ আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিনের পিতা মো. লোকমান হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মুখ্য সংগঠক যায়েদ বিন ওসমান বলেন, “আজকের এই যাত্রা আমাদের কাছে কেবল একটি কর্মসূচি নয়; এটি শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁদের আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শপথ। যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তাঁদের স্মৃতি আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন শহীদ আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিনসহ সকল জুলাই শহীদকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।”
সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের কাছে শুধু একটি স্মৃতি নয়, এটি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা তাঁদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষাকে কখনো ভুলব না, ভুলতেও দেব না। সেই চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যাম্পাস গঠন এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাঙ্গন বিনির্মাণে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”
আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, “বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের অবদান ও চেতনাকে আমরা গভীরভাবে লালন করি। তাঁরা যে বাংলাদেশের স্বপ্নে জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। কোটা আন্দোলন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই। একটি বৈষম্যহীন, নিপীড়নমুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ছিল সেই আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য। গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতিমুক্ত ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যেতে চাই। প্রয়োজন হলে এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও আমরা প্রস্তুত।
