রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর যৌথ আয়োজনে ‘লেক্স সুপ্রিমা ইন্টারন্যাশনাল ল মুটকোর্ট কম্পিটিশন ২০২৬’-এর চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
প্রতিযোগিতার মুট প্রপোজিশনের বিষয় ছিল— “দ্য সেঞ্চুরিয়ান সি: মেরিটাইম বাউন্ডারি ডিলিমিটেশন, ফ্রিডম অব নেভিগেশন, এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এন্ড নন ইন্টারভেনশন”। আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়কে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গবেষণা, লিখিত স্মারকলিপি প্রণয়ন এবং মৌখিক যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ও বেলা যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মুট কোর্ট ও আইন গবেষণা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আন্তর্জাতিক মুটিং, আইনি গবেষণা, স্মারকলিপি প্রণয়ন এবং মৌখিক যুক্তি উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
গত ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার দুটি প্রিলিমিনারি রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল পর্ব। এসব পর্বে মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করে। কঠিন প্রতিযোগিতামূলক ধাপ অতিক্রম করে নির্বাচিত দলগুলো সোমবার অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়।
চূড়ান্ত পর্ব শেষে বিজয়ী ও কৃতিত্বপূর্ণ দলগুলোর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে ‘লেক্স সুপ্রিমা ইন্টারন্যাশনাল ল মুটকোর্ট কম্পিটিশন ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম এবং অধ্যাপক ড. আ. ন. ম. ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক বেগম আসমা সিদ্দিকা এবং রাজশাহী মহানগর ও জেলা দায়রা জজ মোহা. এমদাদুল হক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদান করেন।
এসময়, বক্তারা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক আইনচর্চা, গবেষণা ও ব্যবহারিক আইন শিক্ষা বিকাশে মুট কোর্টের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এ ধরনের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের দক্ষ আইনজীবী, গবেষক ও বিচারবিদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
