পার্লামেন্ট চলাকালীন ব্যস্ততার কারণে এলাকার বাইরে থাকতে হচ্ছে তবুও ছুটির দিনে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ছুটে এসেছেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছেই তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেন। এদিন তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা ও সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।
শুক্রবার সকালে রাজশাহীতে পৌঁছে এমপি মিলন প্রথমেই ভূগরোইল পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে পেট্রোল ও অকটেন কেনার দীর্ঘ লাইন দেখে তিনি বলেন, “এমন দীর্ঘ লাইন ধরে জ্বালানি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এই জ্বালানি ব্যবহার করেন, আর বাকি ৮৮ শতাংশ মানুষ ডিজেল ব্যবহার করেন। ডিজেল ব্যবহারকারীদের এমন লাইনে দেখা যায়নি। তেল পাওয়া যাবে কি না, এমন অমূলক শঙ্কায় জনগণ অযথা আতঙ্কিত হয়ে আছেন।” তিনি আশ্বস্ত করেন, জ্বালানি বিষয়ে সরকারি বরাদ্দ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই সরকার শেষ মুহূর্তে তেলের দাম সমন্বয় করেছে। এ নিয়ে জনগণের সংশয়ের কোনো কারণ নেই। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাম্প ঘুরে দেখে সেখানে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি।
পরবর্তীতে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মতবিনিময় করেন এমপি মিলন। তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজ এবং সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। উপজেলার সকল কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি ‘টিম ওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সার্বিক চাহিদা নিরূপণ ও সমাধানের তদারকি করেন তিনি। এমপি বলেন, “জনগণ আমাকে এক লাখ সাতাত্তর হাজার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে পবা-মোহনপুরবাসী আমাকে যে বিশাল দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সবাইকে সমান চোখে দেখে পালন করতে হবে।”
সরকারি সুবিধার বিষয়ে এমপি জানান, পাইলট প্রকল্পের অধীনে হরিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনো পরিবার যেন এই কার্ডের সুবিধার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে তিনি কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে পরিবারের গৃহকর্ত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি নিজ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিজেদের নামে সিম কার্ড তোলার পরামর্শ দেন। কারণ, এই সিমেই সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধার তথ্য পাঠানো হবে। এজন্য তিনি সবাইকে সঠিক তথ্য প্রদানের আহ্বান জানান।
এমপি মিলন আরও জানান, সরকার পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড ও ইমামদের ভাতা প্রদান করবে। ৩১ দফাও বাস্তবায়ন করা হবে এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলা হবে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
পাশাপাশি নওহাটা পৌরসভার অচলাবস্থা দূরীকরণে তিনি নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং প্রতিদিন দুই ঘণ্টার অধিক সময় এ বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানান। সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিকে একটি ‘বৈশ্বিক সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কৃষিকাজে যেন সেচ কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, মূলত তার জন্যই শহরে লোডশেডিং করা হচ্ছে। আগামীতে সোলার প্যানেল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার এবং পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য মাজদার রহমানসহ পবা উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং পবা ও মোহনপুর শিক্ষা ও প্রকৌশল কার্যালয়ের প্রকৌশলীবৃন্দ।