নওগাঁর মান্দায় গুলিবর্ষণ: বগুড়ায় সেই দুই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার,মিলল পিস্তল

প্রতিবেদক: নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দায় পুলিশের বিশেষ সমন্বিত অভিযানে কিশোর গ্যাং ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর মূলহোতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে অভিযুক্ত সুলতান ও পারভেজকে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোর রাতে বগুড়ার শেরপুরের ‘ফুড ভিলেজ’-এর সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কশব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন সুলতান ও পারভেজ। তাদের দলে যোগ না দিলে স্থানীয় কিশোরদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে কশব এলাকায় সাফিয়াল যাবের নিরব নামের এক তরুণকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মান্দা থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

পরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মান্দা থানা, রানীনগর থানা ও মান্দা সার্কেল অফিসার এএসপি শাওনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, তারা ঢাকার দিকে পালিয়ে যাচ্ছে।
এরপর ৩১ আগস্ট ভোর রাতে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকায় ‘ফুড ভিলেজ’-এর সামনে ঢাকাগামী একতা পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ২৫ মিনিটে মান্দার তুরুকবাড়িয়ায় সুলতানের নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বসতঘরের চালের কার্নিশ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহার ওয়ান শুটারগান, একটি খেলনা পিস্তল, ১৮ ইঞ্চি দীর্ঘ একটি ধারালো ডেগার, একটি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু, তিনটি সাধারণ চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে।

অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যেকোনো মূল্যে নওগাঁকে সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ও আভিযানিক কৌশল কাজে লাগিয়ে আসামিদের সীমানা পার হওয়ার আগেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। নওগাঁ জেলায় কোনো অপরাধী বা বেআইনি কার্যকলাপের স্থান হবে না। আইন অনুযায়ী প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে।

কিশোর গ্যাংয়ের দুই শীর্ষ সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় জেলা পুলিশকে সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মান্দার স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice