গাছ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা না হলে মানুষের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে পবা উপজেলার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ শীর্ষক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মসূচির আয়োজন করে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, “গাছ ও প্রকৃতির ভারসাম্য না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, গাছকে সন্তানের মতো পরিচর্যা করে বড় করে তুলতে হবে।”
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দেশে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ কোটি গাছ লাগানো প্রয়োজন। শুধু মেহগনি নয়, ঔষধি, ফলদ ও সৌন্দর্যবর্ধক ফুলের গাছও লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিদ্যালয়, বাড়ির আঙিনা ও খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এমপি মিলন।
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমুখী ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এমপি মিলন বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “পেশায় যে-ই হোক, সবার আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন ও শৃঙ্খলা মেনে চলার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ এবং পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন।
কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এমপি মিলন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন। পরে তিনি এবং শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
