২০২৪ সালের ২৬ জুলাই। হাসপাতাল থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। গণমামলা ও গ্রেফতারে নাজেহাল হন শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। ৫ শতাধিক মামলায় গ্রেফতার হন ৬ হাজারের বেশি মানুষ। রক্তাক্ত সেই ২৬ জুলাইয়ে কী ঘটেছিল?
রক্তাক্ত জুলাইয়ের ২৬ তারিখ, দিনটি ছিল শুক্রবার। একদিকে ছুটির দিনের নীরবতা, অন্যদিকে দেশজুড়ে চলে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তখন সরকারের দমনপীড়নে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৫৫টি মামলায় শিক্ষার্থীসহ গ্রেফতার করা হয় ৬ হাজারের বেশি মানুষকে।
আন্দোলন দমনের সব চেষ্টাই যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, তখনই বিকেলে আসে নতুন মোড়। রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে নিজেদের হেফাজতে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগেও তাদের তুলে নিয়ে নির্যাতনের পর রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশ তাদের তুলে নেয়ায় তৈরি হয় চরম ক্ষোভ।
এদিকে, আগের দিন ভাঙচুর হওয়া মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শন করে কান্না ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ক্ষোভ সামাল দিতেই যেন ২৬ জুলাই তিনি ছুটে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দেখা করেন চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে রংপুর থেকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা এফআইআর সামনে আসে এদিন। যেখানে আবু সাঈদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে পুলিশের গুলির কথা সম্পূর্ণ চেপে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতকে দায়ী করা হয়। পুলিশের এই সাজানো এফআইআর যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালে।
পুলিশের সাজানো মামলা আর সমন্বয়কদের ডিবি হেফাজতে নেয়ার এই ঘটনা আন্দোলন দমানোর বদলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। যার ফলে ২৬ জুলাইয়ের পর টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—গোটা দেশ রূপ নেয় এক অপ্রতিরোধ্য গণবিক্ষোভে।
