নওগাঁর মান্দা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই লক্ষ টাকা মূল্যের ৫০০ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপাদান (ওয়াশ) উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল ১৯ জুলাই (রবিবার) রাতে উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া (ঋষিপাড়া) গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় ২ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় মান্দা থানার এসআই (নিঃ) আশীষ কুমার সান্যালের নেতৃত্বে একটি দল মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান ডিউটি করার সময় গোপন সংবাদ পায়। সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ৭:২০ মিনিটে শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া গ্রামের পলাতক ১ নং আসামি শ্রীমতি গৌড়ির একটি নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে তল্লাশি চালানো হয়।
সেখানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা বিভিন্ন ড্রাম ও হাঁড়ি থেকে সর্বমোট ৫০০ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপাদান (ওয়াশ) উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক বাজার মূল্য ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা।
পলাতক আসামিরা হলেন:
১. শ্রীমতি গৌড়ি (৩৪), স্বামী-গৌড়।
২. শ্রী গৌড়াঙ্গ (২২), পিতা-শ্রী গৌড়।
উভয়ই মান্দা উপজেলার শ্রীরামপুর উত্তরপাড়া (ঋষিপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে ৬টি বড় নীল রঙের ড্রামের ৩টি বালুর নিচে গভীরভাবে পুঁতে রাখা ছিল। সেগুলো উত্তোলন করা সম্ভব না হওয়ায় এবং অবশিষ্ট প্রায় ৪৯৮.৮ লিটার মদ পচনশীল ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। তবে রাসায়নিক পরীক্ষা ও আদালতে প্রদর্শনের জন্য আলামত হিসেবে ৬০০ মিলি করে দুটি বোতলে মদ সংরক্ষণ ও সিলগালা করা হয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা এসআই আশীষ কুমার সান্যাল বাদী হয়ে মান্দা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ২৪(খ)/৪১ ধারায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খোরশেদ আমল বলেন,পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
