সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল হুমকি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক, সময়োপযোগী ও কার্যকর ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘সাইবার থ্রেটস অ্যান্ড ডিজিটাল ডিফেন্স’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’র (রাকসু) উদ্যোগের এবং রাবি সায়েন্স ক্লাবের সহযোগীতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে রাকসু’র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা বলেন, ‘হার্ভার্ট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত একটি রিসার্চে দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীরাই প্রতিবছর সাইবার অ্যাটাকের স্বীকার হয়। করোনা মহামারি সারা বিশ্বকে যেভাবে ছড়িয়েছিল, তার থেকেও বেশি সাইবার অ্যাটাক আমাদের মাঝে ছড়াচ্ছে বর্তমানে। এসব থেকে বাচার মেডিসিনগুলো কী কী, কিভাবে আমরা এগুলো থেকে বাঁচবো, আজকে আমাদের স্পিকাররা সে সম্পর্কেই কথা বলবেন। আমাদের নিজেরও সচেতনার অনেক অভাব। আমরা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া, মেইল এগুলো ব্যবহারের সময় যথেষ্ঠ সচেতন থাকিনা। তাই এসব বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক থাকবো।’
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সেশন নেন মার্শাল বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র) পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ রুহুল আমিন। তিনি বলেন, বিভিন্ন অ্যাপ পারমিশন নিয়ে আমাদের সবারই সচেতন থাকা উচিত। বর্তমান ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের মাধ্যমেও ফোন হ্যাক করা সম্ভব। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এরকম ঘটনা হাজার হাজার হয়। তাই আমাদের উচিত এগুলো থেকে নিজেদের বাচিয়ে চলা। এসময় তিনি সাইবারের ওপর বিভিন্ন সিনামা আর্টিকেল নিয়েও কথা বলেন।
এছাড়াও কর্মশালায় আরেকটি সেশন নেন আরএমপির উপ পুলিশ কমিশনার, (সিটিটিসি) মোঃ গাজিউর রহমান। এসময় তিনি বিভিন্ন ধরনের সাইবার মামলা, কিভাবে আত্মহত্যার পরিমাণ কমানো যায় এবং কিভাবে এগুলো থেকে সাবধান থাকা উচিত এ বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
রাবি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ বলেন,
‘আমরা এই আয়োজনটি এমনভাবে পরিকল্পনা করেছি, যাতে অংশগ্রহণকারীরা এখান থেকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর মতো নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। আজ আপনারা এখানে সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে যা জেনেছেন, তা যেন নিজ নিজ গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে সচেতনতা তৈরি করেন। আমার বিশেষ অনুরোধ থাকবে—গ্রামের সকলকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অবগত করবেন। কারণ মানুষ যখন নিজে সাইবার অপরাধের ভিকটিম হয়, তখনই উপলব্ধি করতে পারে এটি কতটা ভয়াবহ ও কষ্টকর।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘সাইবার থ্রেট বর্তমানে সারা বিশ্বেই একটি গুরুতর সমস্যা। বিভিন্ন দেশে আমরা প্রায়ই দেখি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইন সেবা প্রদান করছে, তাদেরও শক্ত ও কার্যকর সাইবার ডিফেন্স ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কোনো ধরনের ম্যাসেজ বা তথ্য দেখে যেন আমরা প্রলোভনে না পড়ি—কারণ প্রলোভনে পড়লেই আমরা সহজেই সাইবার থ্রেটের শিকার হতে পারি। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং সবসময় চোখ-কান খোলা রেখে সতর্কতার সঙ্গে অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
উল্লেখ্য, কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান। রাকসুর নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।