রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টায় পবা উপজেলার তকিপুরে সমিতির নিজ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং সমবায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা সমবায় অফিসার মো. সুলতানুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মো. আহাদ আলী শাহ্।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সমিতির সহ-সভাপতি শামসুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মিঠু আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম। এছাড়াও সদস্যদের মধ্যে আলমগীর হোসেন, সামসুদ্দীন, আব্দুল গাফফার, মাইনুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, কামরুল হাসান ও সুজন আলীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সুলতানুল ইসলাম বলেন,“আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সমবায় সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।” তিনি সমবায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আহাদ আলী শাহ্ বলেন,“বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের টিকে থাকতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। সমবায়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে পারি।” তিনি সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিঠু আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন,“সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সদস্যদের জন্য সহজ লেনদেন ব্যবস্থা, বাজার সম্প্রসারণ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” তিনি সদস্যদের সহযোগিতার মাধ্যমে সমিতিকে আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম সমিতির বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন এবং সমবায়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সমিতির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং সমবায়কে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।