কুষ্টিয়ার মেয়ে ইশরাত জাহান স্বর্ণা। পড়াশোনা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে। তার নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও আঁকার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি করছেন নিজের আলাদা পরিচয়। তাঁর গল্পটা শুধু একজন চারুকলার শিক্ষার্থী হিসেবে নয়, বরং নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বপ্নের উদ্যোগ গড়ে তোলার গল্প।
ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি আগ্রহ থাকলেও ফাইন আর্টসে পড়াশোনার মাধ্যমে সেই আগ্রহ পেয়েছে আরও বিস্তৃত রূপ। ক্যানভাসের গণ্ডি পেরিয়ে এখন তিনি বিভিন্ন জিনিসকে পরিণত করছেন শিল্পের মাধ্যমে নান্দনিকতায়।
তাঁর সেই সৃজনশীলতারই একটি নাম ‘অর্নিমা’। এটি তাঁর নিজের তৈরি একটি ব্র্যান্ড ও উদ্যোগ। ‘অর্নিমা’র মাধ্যমে তিনি শাড়িতে নিজের ডিজাইন করেন, পাশাপাশি বিভিন্ন সামগ্রীতেও ফুটিয়ে তোলেন নিজের আঁকা ও সৃজনশীল নকশা। অর্থাৎ, তাঁর কাছে শিল্প শুধু ক্যানভাসে সীমাবদ্ধ নয়—দৈনন্দিন ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসও হয়ে ওঠে তাঁর শিল্প প্রকাশের মাধ্যম।
এরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে তাঁর বিশেষ কাজ। বিশ্বকাপের সময় গ্যাসলাইটে তিনি বিভিন্ন দেশের পতাকা এঁকে সেটিকে রীতিমতো দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে পরিণত করেছিলেন। ব্যতিক্রমী এই কাজটি অনেকের নজর কেড়েছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনায় আসে।
একজন চারুকলার শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের শিল্পভাবনাকে ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারেন, ‘অর্নিমা’র কাজগুলো যেন তারই একটি উদাহরণ। শাড়ির নকশা থেকে শুরু করে নানা সামগ্রীতে হাতে আঁকা ডিজাইন—প্রতিটি কাজেই রয়েছে তাঁর নিজস্ব ভাবনা ও সৃজনশীলতার ছাপ।
নিজের পেজের মাধ্যমে এসব কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘অর্নিমা’ও পেয়েছে ব্যাপক সাড়া। শিল্পপ্রেমী মানুষের আগ্রহ, প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁকে আরও নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি উদ্যোগ গড়ে তোলার বিষয়টি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কারণ তাঁর এই পথচলায় রয়েছে শিল্পের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের পরিচয় ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয়।
কুষ্টিয়া থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—এরপর নিজের শিল্পভাবনাকে ঘিরে ‘অর্নিমা’ গড়ে তোলা। পথটা হয়তো এখনও অনেকটা বাকি, তবে তুলির আঁচড়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার যে চেষ্টা তিনি শুরু করেছেন, সেটিই হতে পারে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জনের সূচনা।
শিল্প যখন শুধু শখ নয়, হয়ে ওঠে স্বপ্ন পূরণের পথ—তখনই জন্ম নেয় ‘অর্নিমা’র মতো একটি গল্প।
