ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ডিবেটিং সোসাইটির (IUDS) বর্তমান সভাপতি ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সেক্রেটারি ইয়াসিন আলি রাশেদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বৈষম্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির কার্যনিবাহি সদস্য মিশুক শাহরিয়ার।
আজ রবিবার (১২ জুলাই) বিতার্কিক মিশুক শাহরিয়ার নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে ইবি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর বরাবর একটি লিখিত আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে ভুক্তভোগী মিশুক শাহরিয়ার তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও অভিযোগসমূহ তুলে ধরে বলেন, ”আমি ইবি ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচনে হল কমিটিকে অবগত করে নির্বাচনে অংশ নিলেও, হলের সেক্রেটারি ও বর্তমান আইইউডিস-এর সভাপতি ইয়াছিন আলী মিথ্যা দাবি করেন যে আমি হলকে জানাইনি। ফলশ্রুতিতে নির্বাচনের দিন সকালে আমার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে অন্য এক সদস্যকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
প্রতিহিংসার বিষয়টি স্পষ্ট করে আরও বলেন, “শিবিরের আয়োজিত একটি উন্মুক্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমি সাধারণ বিতার্কিক হিসেবে ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’ নামে একটি স্লট নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াছিন আলী আমার দলের সদস্য মুশফিককে ফোন করে হুমকি দেন যে, মিশুকের সাথে বিতর্ক করলে তার ডিবেট ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া হবে এবং IUDS থেকে তাকে আর বিতর্ক করতে দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে আমি এই বিতর্কে অংশ নেওয়ার কারণে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক শোকজ নোটিশ প্রদান করে মানহানি করা হয়।”
ভিত্তিহীন রাজনৈতিক ট্যাগের অভিযোগ তুলে বলেন ” আমার কোনো প্রকার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ‘শিবির’ দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড বলে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয়।
আক্রোশ করে আরও বলেন “ইবি ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টামণ্ডলীর পূর্ব সিদ্ধান্ত ছিল যে, নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক (AGS) হিসেবে দায়িত্ব পাবেন। কিন্তু সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের ২৯ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে লালন শাহ হল কমিটির অফিসিয়াল সদস্য নয় এমন ব্যক্তি স্থান পেয়েছে অথচ নিয়মিত সদস্য হয়েও আমাকে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইবির ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর বরাবর শাহরিয়ার দাবি তুলে জানান, “সংগঠনের গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে করা এই পরিকল্পিত অন্যায়ের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, চরিত্রহনন ও মানহানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে উপদেষ্টামণ্ডলীর নির্বাচনকালীন পূর্বসিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুত নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান কমিটির পুনর্গঠন করতে হবে।
আরও জানান ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ভিন্ন মতাদর্শের অজুহাতে যোগ্য বিতার্কিকদের ‘মাইনাস ফর্মুলা’র মাধ্যমে দূরে রাখার অপচেষ্টাটি খতিয়ে দেখে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে।”
অভিযোগের ব্যাপারে সংগঠনটির সভাপতি ইয়াসিন আলী রাশেদ বলেন,”সংগঠনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সকলের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া। কাউকে রাজনৈতিক ট্যাগিং দেয়ার প্রশ্নই নাই। সেক্ষেত্রে মিশুক শাহরিয়ার যে অভিযোগ করেছে সেটি ভিত্তিহীন। কারণ তার চেয়ে পটেনশিয়াল এবং যোগ্য সদস্য থাকায় তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এখানে আমাদের কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা আক্রোশ থেকে পদবঞ্চিত করা হয়নি। তাছাড়া সংগঠনের সিদ্ধান্ত আমার একার উপর নির্ভর করে না, সকলের একমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ট্যাগের বিষটি তুলে ধরে বলেন,”রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে যে বিতর্কের মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করবেন তিনিই এখানে জায়গা পাবেন। রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট বাঁধা নিষেধ নাই, তবে কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে পারবে না”।
এই বিষয়ে সংগঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগেই মিশুক শাহরিয়ার অভিযোগ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের ডেকে কথা বলেছি এবং মিশুক তখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে সম্মতি জানায়। সে সময় চাইলে আমি তাকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম। সে আর কিছু আপডেট জানায়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর সে আবারও নতুনভাবে অভিযোগপত্র দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নাই। তবে বেশ কিছু অভিযোগ নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকায় তা আলোচনা করে দেখতে হবে।
