গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে। তাই গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়াল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব অপু।
এছাড়াও বক্তব্য দেন আরইউজের সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, দৈনিক খোলা কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা রাব্বানী, দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার এম শামীমসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ জুলফিকার, আরইউজের কোষাধ্যক্ষ হাবিল উদ্দিন হাবিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিকুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কার্যকর হওয়ার পর দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রকাশনার অনুমতি (ডিক্লারেশন) বাতিল করে মাত্র চারটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং গণমাধ্যমের বহুমাত্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
বক্তারা এ ঘটনাকে দেশের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন এবং মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আলোচনা সভায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
