রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ আমীর আলী হলের একটি কক্ষে ‘দাগি ঘরগিন্নি’ সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হলের ১৩১ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টার দিকে হলের করিডোর দিয়ে একটি সাপ ১৩১ নম্বর কক্ষের দিকে অগ্রসর হতে দেখে চিৎকার শুরু করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যয়নরত। এসময় তারা সাপটির ছবি তুলে রাখেন। এরমধ্যেই সাপটি কক্ষের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্নেক রেসকিউ টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা শিক্ষার্থীদের তোলা ছবি দেখে সাপটিকে ‘দাগি ঘরগিন্নি’ হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ কক্ষের ভেতরে তল্লাশি চালিয়েও সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সাপ ঢুকে পড়া ১৩১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী রাজিউল ইসলাম রাজিব বলেন, আমি রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। আমাদের কক্ষের দরজা পুরোপুরি লাগানো ছিল না, সামান্য ফাঁকা ছিল। হঠাৎ বাইরে কয়েকজনের চিৎকার শুনতে পাই, তবে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দিইনি। পরে সাপটি রুমে ঢুকে পড়লে অন্য শিক্ষার্থীরা আমাদের জানায়। যদিও শুনেছি এটি বিষধর নয়, তবুও রুমের ভেতর সাপ আছে জেনে এখন থাকতে বেশ বিব্রতকর ও আতঙ্কে লাগছে। এখনো আমরা সেটিকে খুঁজে পাইনি।”
হলের আরেক শিক্ষার্থী মো. মারুফ হোসেন বলেন, “আমরা হলের নিচতলায় থাকি, যার ফলে প্রায়ই সাপ আমাদের রুমের সামনে দেখা যায়। এর আগেও কয়েক মাসে একাধিকবার রুমের সামনে সাপ চলে এসেছিল। সাধারণত দেখতে পেলে আমরা তাড়িয়ে দিই। কিন্তু এবার অসচেতন থাকায় সাপটি সরাসরি রুমের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
সাপটি উদ্ধারে এসে রেসকিউ টিমের সদস্য সামিত হিভেন জানান, এই প্রজাতির সাপ সাধারণত বিষধর নয় এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে সাপটি কক্ষের ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে আছে বলে তারা ধারণা করছেন। সন্ধান না পেয়ে পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা ফিরে যান। তিনি আরও জানান, ঘরগিন্নি সাপ সাধারণত ঘরের কোণ বা আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। বিষহীন হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে।
