ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), কুষ্টিয়ায় আয়োজিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় পক্ষপাতমূলক বিচার, খেলোয়াড়দের হেনস্থা ও আটকে রাখার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদকদের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. আরমানুল হক কিরণ, রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন, চাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. মোহাম্মদ শাওন এবং জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মো. জরজিস আনোয়ার নাইম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন পর গত ৪ মে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় এথলেটিক্স ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা বাস্তবে চরম হতাশা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই ছিল নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে বাস্কেটবল ইভেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সেমিফাইনাল ম্যাচে রেফারির একপাক্ষিক ও পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং আয়োজক দলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশের কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও একই ধরনের পক্ষপাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতির প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়রা মাঠ ত্যাগ করতে চাইলে মেইন গেটে তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রাখা হয় এবং হেনস্থার শিকার হতে হয় বলেও দাবি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনাকে মানবিক মর্যাদার লঙ্ঘন ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের ক্রীড়া সম্পাদকরা যৌথভাবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন উপেক্ষা করা হয়েছে, যা আয়োজক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক বলে মন্তব্য করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সকল অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা, মাঠে হুমকি ও খেলোয়াড় আটকের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আয়োজক-প্রভাবমুক্ত স্বাধীন রেফারি প্যানেল গঠন, খেলার আগে নিরাপত্তা বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রতিটি আসরে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল নিয়োগের দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আদর্শিক পরিবেশে শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্রীড়া দুর্নীতির এমন চিত্র জাতির বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মাঠে ন্যায়বিচার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে প্রকৃত মেধার বিকাশ সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন ছাত্রনেতারা।
