রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মালিকানাধীন জমি পুনরুদ্ধার, সীমানাপ্রাচীর সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে র্যালি নিয়ে রাজশাহীর তালাইমারি এলাকায় গিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে রুয়েটের বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষাবর্ষের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। ‘রুয়েটের জমি রক্ষা করুন—সীমানা সুরক্ষিত করুন; অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করুন’ শীর্ষক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় তাঁরা ‘রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর মুক্ত করো, মুক্ত করো’, ‘অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘আমাদের দুই দফা মানতে হবে, মানতে হবে’—এসব স্লোগানে তাঁদের দাবি তুলে ধরেন।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা দুটি প্রধান দাবি জানান। রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটসহ সব অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট ও সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অননুমোদিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নগরীর তালাইমারি এলাকায় রুয়েটের মালিকানাধীন জমিতে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনাটি সেখানে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পুনরুদ্ধারে বিগত প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
বর্তমানে ওই পাবলিক টয়লেটের পাশেই পুরকৌশল অনুষদের ১০ তলা প্রাতিষ্ঠানিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনের সামনে এ ধরনের স্থাপনা থাকায় শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নান্দনিকতায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন, “আজকে আমাদের দুটি দাবি—রুয়েটের সীমানায় ফ্যাসিষ্ট আমলের একটি পাবলিক টয়লেট এবং প্রাচীর সংলগ্ন সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। কারণ রুয়েটের সীমানার ভেতরে কোনো অবৈধ স্থাপনা চাই না। পাবলিক টয়লেট থাকলে, সেটা অন্যত্র থাকবে, রুয়েটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে নয়।”
তিনি বলেন, “সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে অনেকগুলা অবৈধ স্থাপনা পথচারীদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। মেইন রোড—যেখানে ভারী যানবাহন চলাচল করে, আমাদের পথচারীরা বা শিক্ষার্থীরা সেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। এটা ঝুঁকিপূর্ণ সিচুয়েশন তৈরি করছে এবং প্রতিনিয়ত এক্সিডেন্ট ঘটতেই থাকছে। এসব স্থাপনাগুলাকে উচ্ছেদ করে ফুটপাতটাকে মুক্ত করতে হবে, যাতে আমাদের সবাই নিরাপদে চলাচল করতে পারি।”
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি বাস্তবায়নে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে পাবলিক টয়লেট, দোকানপাটসহ অন্যান্য অবৈধ ও অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান তাঁরা। অন্যথায় সাত দিন পর উদ্ভূত কোনো পরিস্থিতির দায় রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বহন করবেন না বলেও জানান।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, মেইন গেটসংলগ্ন ও সীমানাপ্রাচীরের পাশে গড়ে ওঠা অননুমোদিত ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জনসাধারণের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজন হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির বাইরে উপযুক্ত স্থানে বৈধভাবে নির্মাণের আহ্বান জানান তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ও সীমানা ভবিষ্যতে অবৈধ দখল বা ব্যবহারের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি এবং কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের মতে, ক্যাম্পাসের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান ও অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু পরিবেশ ও নান্দনিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয়। রুয়েট দেশের অন্যতম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি জমি ও অবকাঠামো রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন ধরে থাকা অননুমোদিত স্থাপনাগুলো অপসারণের পাশাপাশি কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট ছয় দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করে নির্মিত অননুমোদিত ও অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জমি দখল বা অবৈধ ব্যবহারের অংশ চিহ্নিত করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবিও তুলে ধরা হয়।
