রাজশাহী বিভাগের নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করতে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক “নৌযান শুমারি ২০২৬” বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজশাহী বিভাগের নৌযান সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অবহিতকরণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সেমিনারটি আয়োজত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্মপরিচালক মো. আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ত্ব করেন রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
রাজশাহী বিভাগে লিস্টিং অপারেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগে মোট নৌযান সংখ্যা হলো- ২৩ হাজার ৫৮৭টি। এর মধ্যে ঘাটভিত্তিক নৌযানের সংখ্যা হচ্ছে- ১৩ হাজার ৬৫০টি এবং খানাভিত্তিক (নৌযানের নির্দিষ্ট ঘাট নয় এমন স্থান) নৌযান হচ্ছে- ৯ হাজার ৯৩৭টি। বিভাগীয় এ শুমারিটি পরিচালিত হবে ৯-১৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত। এতে জেনাল অফিসার হিসেবে কাজ করবেন ৫০০ জন, উপজেলা সমন্বয়কারী হিসেবে থাকবেন ৯৭ জন, জেলা সমন্বয়কারী ৬৩ জন ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী হিসেবে থাকবেন ৮ জন ব্যক্তি। শুমারির প্রাপ্ত তথ্য ইন্টিগ্রেটেড সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ICMS) সফটওয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে হালনাগাদকরণ করা হবে।
জনস্বার্থে পরিচালিত এ নৌযান শুমারি দেশের সকলের কাছে তথ্য পৌঁছে দেবার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বিভাগ টিভিসি, জিঙ্গেল, টিভি স্ক্রলিং, এফএম রেডিও, সংবাদপত্রে প্রচারণা, পত্রিকায় ক্রোড়পত্রের মাধ্যমে প্রচারণা কার্যক্রম চালাবে। এছাড়াও সারাদেশে মাইকিং, সোস্যাল মিডিয়ায় টার্গেট বুস্টিং করে প্রচারণা, স্টিকার, পোস্টার, লিফলেট, ব্রশিউর, ব্যানার এর মাধ্যমে প্রচারণা; মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ সহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক প্রচারণা চালানো হবে বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সেমিনারে বক্তারা জানান, বাংলাদেশের দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রবর্তনের মাধ্যমে নৌযানসমূহকে Inland Shipping Ordinance, 1976 এবং Merchant Shipping Ordinance, 1983 মোতাবেক নিবন্ধনে সহায়তা করবে এই নৌযান শুমারি। তাছাড়া, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপরিবহন খাতের সঠিক পরিসংখ্যানের অভাব দূর করতে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
নৌপথে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি তথা নৌচলাচলের ক্ষেত্রে সার্বিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে এই শুমারি। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবন নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব হবে। একই সাথে পুরো তথ্য হালনাগাদ হলে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুন্দর পরিচালন নীতিমালা প্রণয়ন করাও সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে, যাত্রীবাহী (জাহাজ), যাত্রীবাহী (বোট), বালিবাহী, কার্গো, লঞ্চ, ট্রলার, ড্রেজার, ফেরি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার ইঞ্জিনচালিত নৌযান ইত্যাদি নিবন্ধনের আওতায় আসবে বলে জানান বক্তারা।
