ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘জুলাই গণ অভুল্থান ২০২৪ এর দ্বিতীয় বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাস ব্যাপি লাল ব্যাজ পরিধান কর্মসূচির ঘোষণা করেন উপাচার্য ড. একে এম মতিনুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ ১১ জুলাই হতে আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অফিস চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের লাল ব্যাজ ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো: আব্দুস শাহীদ মিয়া এবং সদস্য-সচিব ড. মো: আসাদুর রহমানের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচিটি সফলভাবে শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী, মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো: মনজুরুল হক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আয়োজিত এই তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ‘
উপাচার্য ড. একে এম মতিনুর রহমান বলেন, আগস্ট আমাদের জাতীয় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এবং সেই অধ্যায়ে আমাদের এই দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী, জনতা শহীদ হয়েছেন। আমি প্রথমেই তাদের শহীদদের আত্মার প্রতি মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।সেই সাথে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এই জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং সেই শিক্ষার্থীদের প্রতি আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আমরা আজকে সেই জুলাই শহীদদের আত্মার প্রতি এবং তাদের অবদানের প্রতি স্বীকৃতিস্বরূপ, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এই জুলাই স্মৃতিকে ধারণ করার লক্ষ্য লাল ব্যাজ ধারণ করব এবং সেটির আজকে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
তিনি আরও বলেন,ইতিমধ্যেই আপনারা হয়তো অবগত হয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এ লক্ষ্যে আরো কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে কর্মসূচি, প্রত্যেকটি কর্মসূচি পালন করার জন্য সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদেরকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং আগামী ১ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজন চূড়ান্ত হয়েছে। এবং সে অনুষ্ঠানে আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং তার হাত দিয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই-আগস্ট শহীদদের স্মৃতিকে স্মরণ করার জন্য, তাদের স্মৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য আমরা একটা স্মৃতিপ্রস্তর স্থাপন করব।
আমি অপরাপর সকল ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠন তাদেরকেও আমি অনুরোধ করব যে এই কার্যক্রমে আপনারা শামিল হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে যেন আমরা সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারি। আশা করি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থেই একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হবে, যে লক্ষ্যে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান তা শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে।
