নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালি শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষা মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। প্লাস্টিক, বায়ু ও পানি দূষণ রোধে দৈনন্দিন জীবনে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজশাহীকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আক্তার, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিখা সরকার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. গোলাম মোস্তফা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উৎপাদনে ঝুঁকি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
