রাজশাহী-২ আসনের ভোটারদের নিয়ে গবেষণা জরিপ প্রকাশ

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসনের ভোটারদের চিন্তা-ভাবনা’ শীর্ষক একটি গবেষণা জরিপের উপাত্ত প্রকাশ করা হয়েছে। এই জরিপে অনুযায়ী রাজশাহী-২ আসনে ৩৩.২ শতাংশ জনগণ মনে করেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন হলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবেন জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির ক্ষেত্রে মনে করেন ২৫.৯ শতাংশ।

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনস কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এ উপাত্ত উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল রিসার্চ ফোরামের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. জি এম শাকিলুর রহমান।

তিনি জানান, টাজশাহী-২ আসনের ৩০ টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ভোট সেন্টার থেকে ভোটার লিস্ট অনুযায়ী ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষণায় স্ট্রাটিফাইড রেন্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণা জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ৩৬.৫ শতাংশ (৩২৪ জন) এবং ৩৬ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ভোটার ৬৩.৫ শতাংশ (৫৬৫ জন)।
লিঙ্গভিত্তিক হিসাবে জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ৫১.৬ শতাংশ (৪৬০ জন) এবং নারী ৪৮.৪ শতাংশ (৪২৯ জন)।

শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষিত ভোটার ২৭.৮ শতাংশ (২৪৭ জন), মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৩ শতাংশ (২৯৪ জন), উচ্চ মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ২০ শতাংশ (১৭৭ জন)। এছাড়া নিরক্ষর ভোটার ১৪.৮ শতাংশ (১৩২ জন) এবং উত্তর দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন ৪.৪ শতাংশ (৩৯ জন)।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ৮৫.৫ শতাংশ (৭৬০ জন) ভোটার বলেছেন পরিবেশ সুষ্ঠু, ১১.৭ শতাংশ (১০৪ জন) মনে করেন সুষ্ঠু নয় এবং ২.৮ শতাংশ (২৫ জন) এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন।

ভোট প্রদানে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ৮৪.৫ শতাংশ (৭৫১ জন) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, ১২.৪ শতাংশ (১১১ জন) ভোট না দেওয়ার মত দিয়েছেন এবং ৩.১ শতাংশ (২৭ জন) এখনও সিদ্ধান্তহীন বলে জানিয়েছেন।

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন বিষয়ে মতামতে ৬০৪ জন অংশগ্রহণকারী বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেন, যা মোটের ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বাস্তবায়নের বিপক্ষে ছিলেন ৫০ জন (৫ দশমিক ৬ শতাংশ)। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন ছিলেন ২৩৫ জন, যা ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দক্ষতা অনুসারে কোন দল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে? প্রশ্নের উত্তরে পছন্দের রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে বিএনপি (ধানের শীষ প্রতীক) সমর্থন করেছেন ২৩০ জন অংশগ্রহণকারী, যা ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) সমর্থন করেছেন ২৯৫ জন, যা ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যান্য দল সমর্থন করেছেন ৪৪ জন (৪ দশমিক ৯ শতাংশ)। তবে ৩২০ জন অংশগ্রহণকারী এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, যা মোটের ৩৬ শতাংশ।

অগ্রাধিক্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছেন ১১৭ জন অংশগ্রহণকারী (১৩ দশমিক ২ শতাংশ)। শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন ১৪১ জন (১৫ দশমিক ৯ শতাংশ)। দুর্নীতি প্রতিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন ২১৯ জন (২৪ দশমিক ৬ শতাংশ)। কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন ১৭২ জন (১৯ দশমিক ৩ শতাংশ)। অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করেছেন ২৪০ জন অংশগ্রহণকারী, যা ২৭ শতাংশ।

গবেষণা জরিপের এই উপাত্ত রাজশাহী-২ আসনের ভোটারদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, অগ্রাধিকার ও সিদ্ধান্তহীনতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুগুলো যে ভোটারদের ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice