রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির আগামী দিনের রাজনীতিতে কৌশলগত পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা সরকার পতন আন্দোলনে কাঙ্খিত ফল না আসায় দলটির অভ্যন্তরে পলিসিগত বিষয়গুলো নিয়ে এখন পর্যালোচনা চলছে। সরকার পতন, নাকি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হবে তা নিয়ে নানা ধরনের মতামত আসছে। জানা গেছে, আগামীতে সরকার পতনকে প্রধান টার্গেট না করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে বিএনপি।
দলটির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের পর আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটি মনে করছে, বিগত নির্বাচনে ৯০ ভাগ ভোটার ভোট বর্জন করে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। এখন জনগণের এই মতামতকে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এর কোনো বিকল্প বিএনপির সামনে নেই।
এ ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতি ঘিরে এশিয়ার পরাশক্তিগুলোর অবস্থানও পর্যালোচনা করছে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলটি বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আনার পেছনে ভারত, চীন ও রাশিয়া সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করেছে। নির্বাচনের পর ভারতের পণ্য বয়কটেরও ডাক দেয়া হয়েছিল বিভিন্ন পর্যায় থেকে। এসব পরাশক্তির সাথে আগামী দিনে বিএনপির সম্পর্কের নীতি কী হবে তা নিয়ে ভাবছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বিএনপি। এর সাথে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি বাড়িয়ে ধীরে ধীরে রাজপথে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করা হবে। একইসাথে দল পুনর্গঠনেও এখন মনোযোগ দেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।
বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের সূত্র জানায়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বুঝে-শুনে সামনের দিকে এগোতে চান তারা। অর্থাৎ যেকোনো কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। বিএনপি বলছে, গণমানুষের দাবি এবং আশা-আকাক্সক্ষা থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই নির্বাচনের পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে সারা দেশে সাংগঠনিক সবপর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল পালন করা হয়েছে। এই ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে থাকতে চান তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, গত কয়েক দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়নি। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নতুন কর্মসূচি নিয়ে ভাবছেন। এখন আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গুচ্ছ কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে।
শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের মূল্যায়ন, গত ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম কার্যদিবসে সারা দেশে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন তারা। এর আগে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারিও কালো পতাকা কর্মসূচি পালন করে দলটি। সেখানেও বাধা দেয়া হয়েছে অনেক জায়গায়। এর মাধ্যমে নির্বাচন পরবর্তী সরকারের মনোভাব বুঝতে পেরেছেন তারা। তবে কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দলের নীতিনির্ধারকরা সন্তুষ্ট। সদ্য কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেয়ায় দলে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
বিএনপি নেতারা জানান, আর কিছু দিনের মধ্যে দলের পুনর্গঠন কাজে হাত দেয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একেবারে জেলাপর্যায় থেকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলো পুনর্গঠন করা হবে। আন্দোলনে সক্রিয় ছিল না, কর্মীদের সাথে যোগাযোগ ছিল না- পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় এমন নেতাদের বাদ দেয়া হতে পারে। কারণ প্রাথমিক মূল্যায়নে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতাদের বিশেষ করে অঙ্গসংগঠনের কাজে ক্ষুব্ধ বিএনপির হাইকমান্ড।
