বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা আনতে নতুন সিদ্ধান্ত

নিউজ ডেস্ক
  • মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
Share Now

ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে প্রতিদিন কলমানি ও রেপো রেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি অর্থের খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে।

নতুন ব্যবস্থায় কলমানি রেটকে ‘ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট’ (ডিওএমএমআর) এবং রেপো রেটকে ‘বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্স রেট’ নাম দেওয়া হয়েছে। এই দুই হার মিলিয়ে একটি সমন্বিত ‘রেফারেন্স রেট’ নির্ধারণ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগের তিন কার্যদিবসের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিদিন সকালে এই রেফারেন্স রেট নির্ধারণ ও প্রকাশ করা হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নিয়মিত এই রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ​দেশের আর্থিক বাজারের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কারে হাত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আর কেবল ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং প্রকৃত লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে মানি মার্কেটের সুদের হার। বৈশ্বিক ‘এসওএফআর’ এর আদলে বাংলাদেশে প্রবর্তিত হবে প্রকৃত লেনদেন ভিত্তিক নতুন রেফারেন্স রেট।

​বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন জানান, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে ‘ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট’ বা ডিবোর প্রচলিত ছিল। তবে এটি ছিল ব্যাংকগুলোর দেওয়া ‘অফার রেট’-এর ভিত্তিতে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো যে দরে লেনদেন করতে চায়, তার ওপর ভিত্তি করে এটি নির্ধারিত হতো। কিন্তু অনেক ব্যাংকই নিয়মিত তথ্য দিত না, ফলে বাজারের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠত না। ​এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহার করে সরাসরি লেনদেনের তথ্য নিয়ে নতুন দুটি বেঞ্চমার্ক রেট প্রবর্তন করেছে।

​অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন যাতে রেটকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট দিনে পর্যাপ্ত লেনদেন না থাকে, তবে ‘রোলিং উইন্ডো’ পদ্ধতিতে পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তথ্য যোগ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

​বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে দেশের আর্থিক বাজারে সুদের হারের একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড তৈরি হবে। এতে করে ​বিভিন্ন ঋণচুক্তি, বন্ড ও ফ্লোটিং রেট প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারণ সহজ হবে। ​আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নতুন বিনিয়োগ পণ্য বাজারে আনতে পারবে।

​আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পাবেন।

​সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি মার্চ মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই রেটগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এই রেফারেন্স রেট দেখতে পাবেন। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বার্ষিক পর্যালোচনার মাধ্যমে এই পদ্ধতিকে আরও আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category