শুধুমাত্র পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের লক্ষে গবেষণা নয় বরং এ গবেষণা শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল, সমাজ ও মানুষের কাজের উপযোগী করে তুলতে হবে। ডিগ্রি অর্জনের পর পড়ালেখার পরিধি অরো বাড়াতে হবে। গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরী করতে গবেষকদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ তাঁর অধিনে গবেষণারত গবেষকদের মিলনমেলায় এসব কথা বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মিলনমেলা নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। রাবির আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এর অধিনে গবেষণারত ফেলো ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত গবেষকদের নিয়ে এ মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষিরা, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গবেষকগণ এ আয়োজনে অংশ নেন।
আনন্দমুখর এ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে গবেষকগনের ভূমিকা দেশ ও জাতির জন্য কী হবে- তা আলোচনায় উঠে আসে। গবেষণার বিনিময়ে শুধু একটি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন নয়; বরং গবেষণার মধ্যে দিয়ে মৌলিক জ্ঞানের আলো সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে বলে মনে করেন গবেষণা কর্মের তত্ত্বাবধায়ক ও গবেষকগণ। জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন গবেষণার পথ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন গবেষকগণ। বিশেষ করে আরবী ভাষা-সাহিত্যের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে এই বিভাগের গবেষকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলেও মনে করেন উপস্থিত গবেষকগণ।
গবেষকদের এ মিলনমেলার সভাপতি প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, গবেষকদের এ সুদৃঢ় বন্ধনকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টিশীল কর্মের সাক্ষর রাখতে হবে। ডিগ্রি পেয়ে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। পড়াশুনার মাধ্যমে জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়াতে হবে। তিনি আলোচনায় বিশ্বের বড় বড় স্কলারদের উদাহরণ টেনে তাঁর ফেলোদের দিকনির্দেশনা দেন। আরবী ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে একইসাথে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নানা দিক নিয়ে কাজের জন্যও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে বিকেলে প্রথম পর্বের এ কর্মসূচি শুরু হয় প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদের রাবির চেম্বারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গবেষকদের জন্য ব্যবস্থা করা হয় উন্নত মানের অপ্যায়ন। সেখানে, গবেষকদের আলোচনা, স্মৃতিচারণ, সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষ হয়। রাজশাহী নগরীর একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে ২য় পর্ব শুরু হয় রাত ৮টার দিকে। রাতের খাবার গ্রহণের পূর্বে সভাপতির সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। বক্তব্য শেষে পরিবেশন করা হয় রাতের খাবার। আবারো এমন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মিলিত হওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান গবেষকগণ।
