প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লিতে মেট্রো-ইন্টারনেট বন্ধ

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। বন্ধ রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার। একই সঙ্গে বিক্ষোভস্থলের আশপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের উদ্যোগে এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এতে হাজারো তরুণ অংশ নেবেন। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নির্বাচনে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন বিরোধী দলগুলোও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীন কর্মকর্তাদের মধ্যেও মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমার প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিই নির্বাচনে দলটির সাফল্যের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের বিক্ষোভে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ করা তাদের মৌলিক অধিকার। অনুমতি না পেলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তর ও আশপাশের বাণিজ্যিক এলাকায় জড়ো হওয়া ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। শুক্রবার শহরগামী কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। একই দিন রাত থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে সরকারি আদেশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভারতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ২০২৭ সালের শুরু থেকে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি-শাসিত উত্তর প্রদেশ অন্যতম। এমন পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ও তরুণদের আন্দোলন ক্ষমতাসীন দলের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice