প্রশ্নপত্রে ভুলসহ নানা অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা ঝোলাল শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় রসুলপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে প্রশ্নপত্রে ভুল, পাঠদানে অনিয়ম ও মূল্যায়নে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে তাঁর কক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়েছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়। আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুসরণ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ ছাড়া পাঠপরিকল্পনার বাইরের প্রশ্নও করা হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এসব নিয়ে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করান না। বিশেষ করে, পদার্থ ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিত থাকেন। পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি—কোনো শিক্ষার্থী ৫০ নম্বরের উত্তর লিখলেও খাতা না দেখেই ৮০ নম্বর দেওয়া হয়েছে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ, আল সাদিক, আনিসুর, আশরাফুলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ‘স্যার নিয়মিত ক্লাস নেন না। পরীক্ষার খাতাও ঠিকভাবে দেখেন না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে ও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে তারা শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় ফ্যান, লাইট, নলকূপসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদক সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগ দেখা যায়নি।

প্রশ্নপত্রে ভুলসহ নানা অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা ঝোলাল শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
প্রশ্নপত্রে ভুলসহ নানা অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা ঝোলাল শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষকের কিছু প্রশাসনিক দুর্বলতা রয়েছে। প্রশ্নপত্রের বিষয়েও তাঁর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তবে শিক্ষার্থীদের তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ করাও সমর্থনযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের এক ভাইয়ের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিভাবক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সার্বিক বিষয়ে রসুলপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, ‘হাজিরা খাতা দেখলেই বুঝবেন শিক্ষার্থীদের অবস্থা। প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষায় একযোগে পরীক্ষা হচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রিন্ট মিস্টেক হয়েছে। টিফিনের পরে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী থাকে না। এ ছাড়া অফিশিয়াল কাজেও আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল আলম মির্জা বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর বিদ্যালয়ে এসেছি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক প্রশ্নের বিষয়ে জানিয়েছেন প্রিন্টিং মিস্টেক হয়েছে। তবে ঘটনা যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাসিবুল আলম মির্জা বলেন, শ্রেণিকক্ষ ও প্রধান শিক্ষককের কক্ষে শিক্ষার্থীদের তালা দেওয়া মোটেই সহনশীল নয়।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice