চৌরঙ্গী জামে মসজিদে নির্মাণ নিয়ে বিরোধ, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবি

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর কাজিহাটা এলাকার চৌরঙ্গী জামে মসজিদে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেজমেন্টে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তুলে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন মসজিদের একাংশের মুসল্লি ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আমিনুর রহমান বাচ্চু। তিনি নিজেকে মসজিদের সাধারণ মুসল্লি, এলাকাবাসীর প্রতিনিধি, চলমান মামলাগুলোর বাদী ও আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচয় দেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাধারণ মুসল্লিদের সমর্থনে একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলেও পরে তাঁদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বর্তমান কমিটির সভাপতি, সাবেক সভাপতি, খতিবসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব ঘটনায় একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্দেশনা উপেক্ষা করে মসজিদের বেজমেন্টে দোকান, টয়লেটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে দুটি ভায়োলেশন মামলাও বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

আমিনুর রহমান বাচ্চু বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট মামলা নম্বর-১৫১১২/২০২৩-এ নতুন নির্মাণের ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী জেলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের মূল মামলা নম্বর-১৩১/২০২৩ (বর্তমান ২৯৮/২০২৬)-এ মসজিদের অবকাঠামোয় মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ভায়োলেশন মামলা নম্বর-৮১/২০২৩ ও ২১/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে। আদালত রাজপাড়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া হামলার অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা নম্বর-২৫৬/২০২৩ ও ১০২/২০২৫ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আরডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী বেজমেন্ট পার্কিং হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ২২ থেকে ২৩টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিক্রিরও চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মসজিদের বিভিন্ন তলায় নামাজের স্থানের ওপর টয়লেট নির্মাণ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তা। এ বিষয়ে আদালত-নিযুক্ত অ্যাডভোকেট কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে অবিলম্বে সব নির্মাণকাজ বন্ধ করা, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেজমেন্টের দোকানগুলো সিলগালা করা, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা তদন্ত এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুর রহমান বাচ্চু বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের একমাত্র দাবি।”

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মসজিদের খতিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কমিটির কেউ নই।” পরে তিনি এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

বর্তমান কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুর রশিদও সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তখন চেম্বারে রোগী দেখায় ব্যস্ত ছিলেন। মামলা ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মসজিদের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

মসজিদের সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল বারীও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, “এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।”

এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “সেই সময় আমি ইমারত কমিটির সদস্য ছিলাম। মামলা বিচারাধীন থাকায় ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice