নওগাঁ জেলা পুলিশের জালে ধরা খেয়েছে ভয়ংকর সিরিয়াল অপরাধী ও কিলার গোলাম মোরশেদ। অদ্য ১১/৬/২৬ ইং তারিখ সন্ধা ০৮,০০ টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এসময় কিলার মোরশেদ কে ধরার জন্য যে সকল পুলিশ কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন সকল কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশে সদস্য গন উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, ওসি ডিবি মোঃহাসিবুল্লাহ হাবিব, ওসি নওগাঁ সদর মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ওসি পত্নীতলা মোঃনিয়মুল হক, ওসি বদলগাছী মোহাম্মদ রুহুল আমিন এসময় নওগাঁ জেলার সকল মিডিয়ার সাংবাদিক গন উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ জেলায় বিভিন্ন থানায় কয়েকটি অপরাধ সংগঠিত হয় কিন্তু পুলিশ এর কোন তথ্য হাজির করতে না পেরে, বিব্রত অবস্থায় পরে,গত ১৭/১/২৬ রাতে ধামুইরহাট থানার জাহান পুর গ্রামে হাসান আলীর দেওয়াল টপকে কলেজ পড়ুয়া মেয়ে উম্মে হাবিবার ঘরে প্রবেশ করে, টিউবয়ের হাতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়, পরে হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় মেয়েটি মৃত্যু বরণ করে। উক্ত সিরিয়াল অপরাধী মোরশেদ একই রাতে আরও দুইটি বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের ও মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরবর্তী ৭/২/২৬ ইং তারিখ রাতে ধামুইরহাট জাহানপুর শহিন ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমের মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়, একই রাতে আরও তিনটি বাড়িতে প্রবেশ করে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে মাথায় বাড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়। এই বিষয় গুলো নিয়ে থানায় পৃথক, পৃথক কয়েকটি মামলা হয়।
নওগাঁ পুলিশ সুপার বিষয়টি অবহিত হয়ে নিজে ঘটনা স্হল পরিদর্শন করে,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে দ্রুত আসামি গ্রফতারের নির্দেশনা দেন।
একই সিরিয়াল কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোরশেদ গত ৭/৫/২৬ ইং তারিখ বদলগাছী থানার দূর্গাপুর,ঘোয়াল ভিটা ও নয়ন শহর এলাকায় রাত, ১২,০০ হতে ভোর ০৪,০০ টা পর্যন্ত মোট তিনটি বাড়িতে দেওয়াল টপকে পার হয়ে ১!শাহানাজ (২২) ২! নাসরিন (১৩) ও ৩! বাক প্রতিবন্ধি, বৃষ্টি (২০) মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে এরা সবাই গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই তিনটা অপরাধের বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সরাসরি এসব ঘটনা পরিদর্শন করেন এবং বিচলিত হয়ে পরেন।সকল থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সার্কেল পুলিশ সুপার গন কে এই সন্ত্রাসী হামলার ক্লু বের করার কোঠর নির্দেশনা দিয়ে নিজেই মাঠে নেমে পরেন।বিভিন্ন এলাকায় জনগণের মাঝে গুজ্ঞনের ও সমালোচনা শুরু হয়।পুলিশ সুপার নিজেই আসেপাশে জেলার পুলিশ কর্মকর্তা গনের সাথে যোগাযোগ করে এবং তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করে।পরবর্তী সময়ের গত ৯/৬/২৬ ইং তারিখে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে নওগাঁ ডিবি পুলিশ একটি চৌকস টিম সহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় বাসন থানা, সফিপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে ১০/৬/২৬ ইং তারিখ ভোর ০৬,৩০ মিঃ কুখ্যাত সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোরশেদ (২৭) পিতাঃহইবর (হবিবর) সাং পাতহাট, থানাঃবিরাম পুর,জেলাঃদিনাজ পুর কে,গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
উক্ত আসামি মোরশেদ কে জিজ্ঞেসাবাদ করলে পুলিশের কাছে উপরে সকল অপরাধের নিজ মূখে স্বীকার করে। তথ্যমতে তার দ্বারা এমন প্রায় ১৬ টি ঘটনা তিনি ঘটিয়েছে। কিলার মোরশেদ কে গ্রেফতার করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে সার্থক হয়েছে। উল্লেখ থাকে যে বর্তমান সর্বচ্চ প্রযুক্তি ও গোয়েন্দার মেধা ব্যাবহার করে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।এই সিরিয়া সন্ত্রাসী কিলার মোরশেদের আচরণ,বিভিন্ন সিনেমার ভিলেনের অভিনয় কে হার মানিয়ে শেষে নওগাঁর চৌকস পুলিশের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে।
