ফুল-উপহার নিয়ে রাবি উপাচার্য অফিসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ফুল ও উপহার নিয়ে দেখা করতে মুখিয়ে থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, বিভাগ ও ক্লাবের দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের। তবে এই নিয়ম-সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে চান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২৬তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তার নির্দেশনায় উপাচার্য দপ্তরে ফুল ও উপহার নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

গত ১৬ মার্চ উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মার্কেটিং বিভাগের এই অধ্যাপক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি শুভেচ্ছা জানাতে আসা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের ফুল ও উপহার না আনার অনুরোধ জানান। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি উপাচার্য দপ্তরের সামনে ‘ফুল এবং উপহার নিয়ে প্রবেশে নিষেধ’ লেখা একটি নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য দপ্তর সূত্র থেকে জানা যায়, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও আনুষ্ঠানিক ব্যয়ও কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন উপাচার্যের এই সিদ্ধান্ত রাবিতে প্রশাসনিক সংস্কৃতির একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

উপাচার্যের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, উপাচার্যের এমন সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এমন উদ্যোগ শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নয় বাংলাদেশের সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এ অধ্যাপক।

এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এগ্রোনমি অ্যান্ড এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। ফুল বা উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা তৈরি করে, যা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কাম্য নয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে যে, ব্যক্তিগত তোষামোদ নয়, বরং যোগ্যতা ও কাজই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্যের একান্ত সচিব শাহজাহান আলী জাকির বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য আসার পর থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন আগের মতো কাউকে ফুল বা উপহার নিয়ে আসতে দেখা যায় না। আর যদি কেউ এগুলো নিয়েও আসেন–সেটি উপাচার্য স্যার গ্রহণ করেন না বলে জানান এ কর্মকর্তা।

এমন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কাজকেন্দ্রিক হোক। আমি চাই মানুষ আমাকে কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করুক; ফুল বা উপহার দিয়ে নয়। আমি আগেই কারো কাছ থেকে ধন্যবাদ নিতে চাই না। সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি, যেদিন আমার দায়িত্ব শেষ হবে এবং মানুষ আমার কাজের মূল্যায়ন করবে। আমি চাই, সবাই সরাসরি কাজের বিষয়ে কথা বলুক—এটাই হোক আমাদের নতুন প্রটোকল।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা অতিথিদের সম্মান জানানোর জন্য আন্তরিকতাই যথেষ্ট। এর জন্য বাহ্যিক কোনো উপকরণের প্রয়োজন নেই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি ইতিবাচক ও বাস্তবধর্মী প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই।”

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice