হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব, বড় পরিকল্পনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত আট বছর ধরে এই টিকা সঠিকভাবে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় হামের টিকা কেনার জন্য ইতিমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ দিনে হামের প্রকোপ বেড়েছে। মূলত গত আট বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই সম্প্রতি এর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে এই সংকট সমাধানে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কেনা হচ্ছে।’ স্বাস্থ্যখাতের নানা সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ঠিক করতে সবার সহযোগিতা লাগবে। তবে আমরা কোনো দুর্নীতি মেনে নেব না।’

মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মানুষের হাতে মানসম্মত ওষুধ তুলে দিতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। গত ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন শিশু মারা গেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা মন্ত্রী-সচিব হয়েও বিষয়টি জানতে পারিনি; গণমাধ্যমের কল্যাণে জেনেছি। আমাদের ন্যূনতম প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী দেশের ওষুধশিল্পের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম ছিল, বাকি ৮০ শতাংশই ছিল আমদানিনির্ভর। কিন্তু বর্তমানে মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ১৫৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ওষুধের বাজার পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। বর্তমানে ১২২টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশের ওষুধশিল্প গুণগত মান ও কার্যকারিতা বজায় রাখছে এবং এই সুনাম ধরে রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুকতাদির বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি করছে। এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) শিল্পেও দেশ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নীতিগত সহায়তা ও পরিবর্তন পেলে এই খাত আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ ওষুধশিল্পে এগোতে চায়। চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে এই শিল্প কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও নানা পদক্ষেপে সমস্যার কিছুটা সমাধান হয়েছে।’

আবদুল মুকতাদির আরও জানান, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ওষুধের দাম তুলনামূলক কম। প্রতিবেশী যেকোনো দেশের চেয়ে কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice