বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান সংকট মোকাবিলায় রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জোরদার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আজ ২৯ মার্চ রবিবার সকাল ১১ টায় রাজশাহী রেলষ্টেশন সংলগ্ন পদ্মা এবং যমুনা অয়েল ডিপোতে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
বিজিবি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে যাতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তেল পাচার না হয়, সে লক্ষ্যে টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুদ বন্ধ এবং জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীর পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোতে গত ২৫ মার্চ থেকে প্রতিটিতে ১ প্লাটুন করে মোট ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এসব ডিপোতে সার্বক্ষণিক টহল ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
রাজশাহী জেলায় মোট ৩টি ডিপো থেকে ৬৪টি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ১২টি ফিলিং স্টেশন। এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিবি বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।
এছাড়া ব্যাটালিয়নের অধীন ১৬টি বিওপি’র মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ টহল ও তল্লাশি অভিযান এবং ২৮৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বেলপুকুর ও রাজাবাড়ি স্থায়ী চেকপোস্টে প্রায় ২,৫০০টি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
নৌপথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্পিডবোটের মাধ্যমে ৪৮টি টহল পরিচালনার ফলে নদীপথে জ্বালানি পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানায় বিজিবি।
বিজিবি আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখা গেলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
