মান্দায় নুরুল্ল্যবাদ ইউনিয়নে ইটের সলিং উঠে ১৪ কি:মি: বেহাল সড়ক

প্রতিবেদক: নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১০ নম্বর নুরুল্ল্যবাদ ইউনিয়নের তিরমনি থেকে ফতেহপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানের ইটের সলিং উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের। ভাঙাচোরা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ স্থানেই ইটের সলিংয়ের অস্তিত্ব নেই। কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালু উড়ছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যানবাহনে চলাচলের সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে পাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পার নুরুল্ল্যবাদ গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় ইট উঠে গর্ত হয়ে গেছে। রিকশায় গেলে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। এ কারণে বেশির ভাগ সময় হেঁটেই যাতায়াত করি। আমরা রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় গৃহিণী নার্গিস আক্তার বলেন, “জোতবাজার থেকে আসা-যাওয়া করতে খুব কষ্ট হয়। রিকশার ঝাঁকুনিতে কোমরে ব্যথা হয়। তারপরও বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক বছর ধরে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা, কিন্তু কারও নজরে পড়ছে না।”

অটোরিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চালাতে অনেক ঝাঁকুনি লাগে। ভোগান্তির কারণে যাত্রীরাও এ পথে চলাচল করতে চান না।

১০ নম্বর নুরুল্ল্যবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একসময় সড়কটিতে ইটের সলিং করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি পাকা করা জরুরি। তা না হলে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, সড়কটি পাকা করার চেষ্টা চলছে। এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর হওয়ায় মাটি কাটার কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে করতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সড়কটি পাকা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজটি করতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice