অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে মধ্যাহ্নভোজ, নবীনদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা, আবার অসহায় মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া—এমন একের পর এক মানবিক উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আলোচনায় এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. শাকিল দেওয়ান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী অ্যাকাডেমিক ভবনে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ‘ফুড হেভেন’-এ শতাধিক অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে মধ্যাহ্নভোজ করান তিনি।
এর আগে প্রতিদিন মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীকে প্রতীকী ৫ টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়ায় বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী এ সুবিধা পাচ্ছেন।
শুধু মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচিই নয়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল নবীন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিজ উদ্যোগে কিনে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শাকিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী নতুন উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও জটিল চর্মরোগে আক্রান্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আব্দুর রহমান (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। বর্তমানে নিজ উদ্যোগে নিয়মিত তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া ও সেবাযত্ন করছেন। মানবিক এসব কর্মকাণ্ডে অসহায় মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন আশার প্রতীক।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল দেওয়ান বলেন, “শুরুতে পাঁচজনকে খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারিনি। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যোগের পরিধি বাড়িয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “নিজের টিউশনি এবং খাবারের দোকানের আয়ের একটি অংশ দিয়েই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। মানুষের সেবার মধ্যে যে মানসিক শান্তি রয়েছে, সেটিই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অসচ্ছল শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা রয়েছে।”
এ উদ্যোগের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত ভালোভাবে খেতে পারেন না। টিউশনি বা খণ্ডকালীন কাজ করে পড়াশোনা চালাতে হয়। এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এখানকার খাবারের মানও অনেক ভালো, অনেকটা বাসার খাবারের মতো। আমরা চাই, ভবিষ্যতে আরও বেশি অসচ্ছল শিক্ষার্থী এ সুবিধার আওতায় আসুক।”
সহপাঠীদের মতে, শাকিল দেওয়ানের এ উদ্যোগ শুধু একটি খাবার কর্মসূচি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
