পুঠিয়ায় প্রধান শিক্ষক-নৈশ প্রহরী দ্বন্দ্বে খোয়া গেল মূল্যবান সম্পদ

প্রতিবেদক: পুঠিয়া উপজেলা প্রতিনিধি:

পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সদর দরজার তালা কেটে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াও ল্যাপটপ ও বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় বিষয়টি টের পাওয়া গেছে বলে জানান স্কুলের পিয়ন আরিফ হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অফিসের তালা কেটে ল্যাপটপ, ওয়াইফাই রাউটার, সিসিটিভির ডিভিডি মেশিন, কিছু কাগজপত্র ছাড়াও ওয়াশরুম গুলোর ড্যাবের মাথাগুলো খুলে নিয়ে গেছে।

নৈশ প্রহরীর মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব থাকায় ঠিকমতো নৈশ প্রহরী আবুল কালামকুল পাহারা দিত না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অবগত থাকলেও নেয়া হয়নি বিকল্প কোন ব্যবস্থা। সে কারণেই স্কুলের মূল্যবান সব জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। স্কুলের নৈশ প্রহরী আবুল কালাম জানান, ‘আমি এই বিদ্যালয় ১৮ থেকে ১৯ বছর যাবত চাকরি করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমি এক টাকাও বেতন পাইনি। অথচ প্রধান শিক্ষক চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমার নিকট ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে এবং সর্বশেষ আমার কাগজপত্র ঢাকায় পাঠাবে বলে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত আমার কোন বেতন হয়নি। আজ থেকে তিন মাস পূর্বে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়ে তালা মেরে দেয়। তারপর থেকে আমি আর স্কুল পাহারা দিতে আসিনি। আমার ধারণা আমি টাকা চাই এবং তার বিরুদ্ধে বলার কারণে ষড়যন্ত্রমূলক চুরির নাটক সাজিয়ে আমাকে স্কুল থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে।’

সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘আজ (বুধবার) সকালে আমার স্কুলের একজন কর্মী আমাকে ফোন দিয়ে জানান যে স্কুলে চুরি হয়েছে। পরে আমি এসে দেখি আমার অফিস রুমের তালা কেটে অনেক কিছু চুরি হয়েছে। নৈশ প্রহরী থাকা সত্ত্বেও এমন চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেতন সংক্রান্ত কারণে ঠিকমত কাজ করে না নৈশ প্রহরী আবুল কালাম। তার গাফিলতির বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবগত করা হয়েছে। স্কুলে চুরির বিষয়ে আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।’

উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা লায়লা আক্তার জানান, ‘বিষয়টি আমি শোনা মাত্র থানা পুলিশকে জানাতে বলেছি। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বলেছি।’ তিন মাস থেকে নৈশ প্রহরী স্কুলে থাকে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে কোন সময় জানাননি যে স্কুলে নৈশ প্রহরী থাকেন না।’

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি লিয়াকত সালমান জানান, ‘স্কুলে চুরি হওয়ার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেছেন। আমি থানায় গিয়ে অভিযোগ করার জন্য বলেছি। তিন মাস থেকে স্কুলে কোন নৈশ প্রহরী থাকে না এ বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি আমি কোন সময় অবগত ছিলাম না, এটা আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম।’

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক:
প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক:
ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন

যোগাযোগ:
বাড়ি ০১, রোড নং-১১, সেক্টর- ১৩, উত্তরা ঢাকা-১২৩০

মোবাইল :
০১৭১৪-৯০৮৫৪৫

ইমেইল :
citizenvoicebd2020@gmail.com

সর্বশেষ

© All rights reserved © 2026 Dailycitizenvoice